Digitally Found: মহাকুম্ভে ‘ভুলা-ভাটকা ক্যাম্প’-এ কীভাবে হারানোর খোঁজ মেলে জানেন?...
পূর্ণ মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান প্রয়াগরাজে। সংগৃহীত চিত্র।
মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পর পূর্ণ মহাকুম্ভের (Mahakumbh Mela 2025) প্রথম দিনেই সুপারহিট। ২৫০ জন নিখোঁজ পুণ্যার্থীকে ডিজিটাল (Digitally Found) উপায়ে খোঁজ করে অনন্য নজির গড়ল কুম্ভমেলা প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী প্রশাসন। কুম্ভ মেলায় হারিয়ে যাওয়াটা ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটা প্রবাদে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, কুম্ভে এলে হারিয়ে যাবেই! এবার এই সমস্যার সমাধানে বিরাট সাফল্য পেয়েছে মহাকুম্ভে। জীবনভর খোঁজ না মেলার এই লোকশ্রুতিকে ভুল প্রমাণিত করেছে ডিজিটাল পদ্ধতি। পুলিশ প্রশাসনও সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আরও সুশৃঙ্খল করেছে মেলাকে। মহাকুম্ভে প্রথম দিন ছিল পৌষ পূর্ণিমা। জানা গিয়েছে, মোট দেড় কোটি ভক্ত ত্রিবেণী সঙ্গমে পবিত্র পুণ্যস্নান করেছেন। মেলা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রি পর্যন্ত। আনুমানিক ৪০-৪৫ কোটি ভক্ত এই ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করবেন।
এই বিরাট হিন্দু মেলাকে (Mahakumbh Mela 2025) সুপরিকল্পিত ভাবে পরিচালনা করার জন্য ‘ভুলা-ভাটকা ক্যাম্প’, পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র এবং মেলার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারে কর্মীদের মোতায়েন সহ বেশ কয়েকটি ভিড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ করে শিশু এবং মহিলাদের এই শিবিরগুলি থেকে সামাজিক মাধ্যমে ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহার করে খোঁজ করার সন্ধান (Digitally Found) করার প্রক্রিয়া চালানোর কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিরাট কুম্ভমেলায় (Mahakumbh Mela 2025) মোট ১০টি 'খোয়া-পাওয়া' অর্থাৎ হারানো এবং প্রাপ্তির কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে আধুনিক সবরকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকল তীর্থযাত্রীদের জন্য যে কোনও সহায়তা প্রধান করা হবে এই জায়গাগুলিতে। মহিলা ও শিশুদের জন্য প্রতীক্ষালয়, ডাক্তারি চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিনোদনের জন্য নানা উপকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ এডিজি ভানু ভাস্কর বলেন, “প্রত্যেক শিবিরে ৫৫ ইঞ্চির একটা করে লাইভ স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে যার মাধ্যমে দ্রুত সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে। মেলায় (Mahakumbh Mela 2025) হারিয়ে যাওয়া কোনও হারানো এবং প্রাপ্তির খবর সম্প্রচার করা হবে। নিখোঁজকে খুঁজে পেতে ফেসবুক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ আরও একাধিক সামজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচার-প্রসার করা হবে। একই ভাবে স্নানের জন্য কেন্দ্রীয় ঘাট ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশিকা দেওয়া হবে।”
পাশাপাশি এই সহায়তা কেন্দ্রগুলি থেকে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি এবং বস্তু সম্পর্কে যে ডিজিটাল রেকর্ড করা সংগ্রহ করা হয়েছিল সেগুলিকে প্রথমে কম্পিউটারাইজড রসিদ এবং ছবি সমেত ওই ৫৫ ইঞ্চি স্ক্রিনে দেখানো হবে। এরপর একে একে সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তিতে সব জায়গায় তা প্রদর্শন করা হবে। নিখোঁজ সম্পর্কে স্ক্রিনে দেখে শিবিরে গেলে প্রশাসনের সহযোগিতায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যাবে। শুধু যে মানুষ নিখোঁজকেই সন্ধান করা হবে তাই নয়, মোবাইল, মানিব্যাগ, প্রয়োজনীয় সামগ্রীও একই ভাবে সন্ধান (Digitally Found) করার কাজে পরিষেবা মিলবে।
কুম্ভমেলায় (Mahakumbh Mela 2025) নিজের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিজনদের দ্রুত খুঁজে (Digitally Found) দিতে লাগাতার মাইকে ঘোষণার প্রক্রিয়ায়ও করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে থাকা কর্মীরাও খোঁজে বিরাট ভূমিকা রাখছেন। এই কাজের জন্য মেলার মাঠে তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের স্থাপন করা হয়েছে। আবার উত্তরপ্রদেশ সিভিল ডিফেন্স কর্মী নীতেশ কুমার দ্বিবেদী প্রথম দিনেই মেলার সাফল্য নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মহাকুম্ভের এই বিরাট আয়োজনে অনেক হারিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মাত্র দেড় ঘণ্টায় আমাদের সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা উদ্যোগী হয়ে ২০০-২৫০ জনকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে কাজটি কঠিন হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা করেছে।” একই ভাবে মেলায় হারিয়ে যাওয়া দিল্লি থেকে আসা তীর্থযাত্রী অজয় গোয়েল জানান, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের লোকজনের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছি।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।